Featured Posts

Most selected posts are waiting for you. Check this out

টয়লেটে মোবাইল ফোন নিয়ে যাচ্ছেন নাতো?

টয়লেটে মোবাইল ফোন নিয়ে যাচ্ছেন নাতো?



অনেকেই টয়লেটে যাওয়ার সময় সঙ্গে করে মোবাইল ফোন নিয়ে যান। করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে এখনই এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে। আয়ারল্যান্ডের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কাঠ, ধাতব ও প্লাস্টিকে এ ভাইরাস দুই থেকে নয় ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তাই বর্তমান করোনা মহামারির সময় টয়লেটে ফোন বের করার অভ্যাস ছাড়তে হবে। নিয়মিত ফোন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই দিনে গড়ে শতবারের বেশি মোবাইল ফোন স্পর্শ করেন। করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে সাধারণ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ভালো করে হাত ধোয়া। পারলে হালকা গরম পানি ও সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া। বারবার মুখে হাত দেওয়া যাবে না। যেসব জিনিস নিয়মিত স্পর্শ করা হয়, তা জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
আয়ারল্যান্ডে করোনায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ২৪ ছাড়িয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে প্রতি দুজনের একজন টয়লেটে মোবাইল নিয়ে যান। যাঁরা ঘন ঘন মোবাইল স্পর্শ করতে অভ্যস্ত, তাঁরা জনসমাগম স্থলে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মোবাইল নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার অভ্যাস করতে হবে।

ফোন নির্মাতা অ্যাপল ও স্যামসাং কর্তৃপক্ষ অবশ্য ফোন পরিষ্কারের ক্ষেত্রে কোনো ডিটারজেন্ট, অ্যালকোহল বা অ্যামোনিয়াভিত্তিক পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করতে নিষেধ করে। অ্যাপল জানায়, অ্যারোসল স্প্রে ও ব্লিচের ক্ষেত্রে এখনো এ সমস্যা হতে পারে। তবে অ্যাপলের সাপোর্ট পেজে বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেখানে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে কীভাবে অ্যাপল পণ্য পরিষ্কার করতে হবে, এর দিকনির্দেশনা দিয়েছে। অ্যাপলের প্রকাশ করা ওই নোট অনুযায়ী, অ্যাপল পণ্য ব্যবহারকারীরা তাদের আইফোনে ক্লোরক্স ডিসইনফেকটিং ওয়াইপসবা একই ধরনের পণ্য ব্যবহার করতে পারেন।

স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রেও ভেজা কাপড় ও হালকা সাবা দিয়ে ফোন পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। তবে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। অনেক দোকানেই ফোন ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রবান্ধব স্যানিটাইজার বিক্রি করা হয়। ফোন জীবাণুমুক্ত রাখতে এসব পণ্যেও ভরসা রাখা যায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের স্বাভাবিক বিবেচনা থেকেই বুঝতে হবে যে দিনে কতবার ফোন আমরা স্পর্শ করছি।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম কিভিল বলেন, ‘আপনি হাত ধুতে পারেন, কিন্তু ফোন স্পর্শ করে মুখে হাত দিলে তা থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

লিভারপুল হোপ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান বায়োলজি অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের প্রভাষক পারপেচুয়া ইমাগে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ফোনে গড়ে ১৭ হাজার ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা ১০টা টয়লেট সিটের সমান।

ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় শত নিয়ম মেনে চললেও ফোন যথাযথ সুরক্ষিত না রাখলে কোনো কাজ হবে না। তাই নিজে পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি মোবাইল ফোনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, মেট্রো ডটকো।

চা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

চা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।


ঘুম থেকে উঠে সকালে অনেকের দিনই শুরু হয় না এক কাপ গরম গরম চা না খেলে।আর শীতের সময় তো দিনে অনেকবারই চা খাওয়া পড়ে।তবে সেই চা যদি লিকার চা হয় তাহলে ভালো।কারণ চায়ের সঙ্গে দুধ মেশালেই এর সব গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটাই জানিয়েছে গবেষকরা।
জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করেছেন, লিকার চা রক্তনালির প্রসারণ ঘটায়। উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি এই রক্তনালির প্রসারণ।চায়ে থাকা ক্যাটেচিন রক্তনালির প্রসারণের জন্য দায়ী।দুধের মধ্যে থাকে ক্যাসেইন।এটি ক্যাটেচিনকে বাধা দেয়।ফলে চায়ে দুধ মেশালে চায়ের রক্তনালী প্রসারণের ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যায়।
মার্কিন কৃষি দফতরের গবেষকরা দাবি করেন, চায়ের প্রভাবে কোষ থেকে সাধারণের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি ইনসুলিন বের হয়।এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত জরুরি।কিন্তু চায়ে দুধ মেশালে এই ইনসুলিন নির্গমনের হার কমতে থাকে। যদি ৫০ গ্রাম দুধ মেশানো হয়ে থাকে, তাহলে ইনসুলিনের নির্গমন শতকরা ৯০ শতাংশ কমে যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও লিকার চায়ের জুড়ি নেই।দুধ-চিনি ছাড়া লিকার চায়ে থাকে ২ ক্যালরি।১ চামচ চিনিসহ লিকার চায়ে থাকে ১৬ ক্যালরি।১ চামচ চিনি ও দুধসহ চায়ে থাকে ২৬ ক্যালরি।লিকার চায়ে হার্ট সুস্থ থাকে।ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
প্রাইভেট কোচিং বন্ধ না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে লাভ হবেনা। ScienceBari

প্রাইভেট কোচিং বন্ধ না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে লাভ হবেনা। ScienceBari



মরণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ তথ্য জানিয়েছেন। বিকেলে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ১৮ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে দুপুরে সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, করোনার সংক্রমণ যাতে না ছড়ায়, তাই এ সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেনএখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো পরিস্থিতি হয়নি, তারপরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটি, রোজার ছুটির সাথে প্রয়োজনে এ ছুটিকে সমন্বয় করা হবে। তখন ছুটি কমে আসতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর শিক্ষার্থীরা ঘরের বাইরে ঘুরে বেড়ালে এই সিদ্ধান্ত কোনো কাজে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

একইসঙ্গে দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, সব কোচিং সেন্টারে অবশ্যই ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে।

প্রসঙ্গতদেশে এখন পর্যন্ত আটজনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছেকোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন দুই সহস্রাধিক।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৭ হাজার ৭৫৩ জন সুস্থ হয়েছেন।

ভাইরাসটিতে এখনও পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮৫ হাজার ২৪৭ জন। চিকিৎসাধীন ৭৯ হাজার ৩২৬ জনের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন ৫ হাজার ৯২১ জন।

চীনে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ৮৫৯ জন; আর প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ২১৩ জন। ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ৭৪৭ জন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৮০৯ জন।

খাঁটি মধু চেনার সেরা ৫টি উপায়।

খাঁটি মধু চেনার সেরা ৫টি উপায়।

মধুতে রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। ত্বকের যত্নে ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা সারাতে মধু খুব ভালো কাজ করে। মধুতে প্রায় ৪৫টিও বেশি খাদ্য উপাদান থাকে। তবে এতে সাধারণত কোনো চর্বি বা প্রোটিন নেই। প্রতি ১০০ গ্রাম মধু থেকে আমরা পাই ৩০৪ ক্যালরি।
মধু কিনতে গেলে কমবেশি সবাই বিপাকে পড়ে যান। কারণ নকল মধুতে বাজার সয়লাব। সব মধুর চেহারা একই রকম হওয়ায় বোঝা দায় কোনটি আসল, কোনটি নকল।
খাঁটি মধু চেনার উপায় জানতে হলে আপনার কিছু কৌশল জানা প্রয়োজন, খুব সহজেই চিনতে পারেন আসল মধু। তবে আসল মধু চেনার আগে চিনতে হবে নকল মধু।

১. এক গ্লাস পানিতে এক চামচ পরিমাণ মধু দিন। তার পর আস্তে আস্তে গ্লাসটি নাড়া দিন। মধু পানির সঙ্গে মিশে গেলে নিশ্চিত হবেন সেটা ভেজাল মধু। আর মধু যদি ছোট পিণ্ডের মতো গ্লাসের পানিতে ছড়িয়ে যায়, তা হলে বুঝবেন সেটি খাঁটি মধু।
২. নকল মধুতে ফেনা হয়। এ ছাড়া একটু টকটক গন্ধ থাকবে এবং গন্ধ তেমন ভালো হয় না।
৩. নকল মধু বেশ পাতলা হয়। স্তরগুলো আলাদা করা যায়। এ ছাড়া খেতে সুস্বাদু হয় না। এ ছাড়া তলানিটা খসখসে থাকে।
৪. সামান্য মধু আঙুলে নিন, এর পুরুত্ব দেখুন। আসল মধু অনেক বেশি আঠালো হবে।
৫. খাঁটি মধু ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যাবে। তার পর আস্তে আস্তে গ্লাসটি নাড়া দিন। মধু পানির সঙ্গে মিশে গেলে নিশ্চিত হবেন সেটি ভেজাল মধু। আর মধু যদি ছোট পিণ্ডের মতো গ্লাসের পানিতে ছড়িয়ে যায়, তা হলে বুঝবেন সেটি খাঁটি মধু।


স্বপ্ন কি? মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে ?

স্বপ্ন কি? মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে ?

স্বপ্ন কি ?

মানুষ জীবনের ৩৩% সময় ঘুমিয়ে কাটায়। স্বপ্ন মানুষের ঘুমন্ত জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। নিদ্রিত অবস্থায় ইন্দ্রিয়গণ স্তিমিত হয় কিন্তু সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয় না। তাই নিদ্রাকালে নানারূপ কল্পনাশ্রয়ী চিন্তা ও দৃশ্য উদিত হয়। এই সব দৃশ্য দেখাকে একরকমের “স্বপ্ন দেখা বলা হয়। নিদ্রিত অবস্থায় জাগ্রত অবস্থার ধারাবাহিকতাকেও স্বপ্ন বলা যেতে পারে। স্বপ্নে নিজের কাছে নিজের নানারকম আবেগ, তথ্য ও তত্ত্বের প্রকাশ ঘটে। স্বপ্নে দেখা দৃশ্য জাগ্রত প্রতক্ষ্যের মতোই স্পষ্ট। আমরা স্বপ্ন দেখি অর্থাৎ স্বপ্ন মূলত দর্শন-ইন্দ্রিয়ের কাজ। স্বপ্ন দেখা অনেকটা সিনেমা দেখার মতো। তবে স্বপ্নে অন্যান্য ইন্দ্রিয়েরও গৌণ ভূমিকা থাকে। জাগ্রত অবস্থায় প্রতক্ষ্যের মাধ্যমে যেমন শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তেমনি স্বপ্ন দেখাতেও কিছু না কিছু শারিরীক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন ?

ঘুমের মধ্যেও ইন্দ্রিয়গণ বাইরের জগত থেকে সংবেদন গ্রহণ করতে পারে। এ সব সংবেদন ইচ্ছামতো প্রতিরূপে রূপান্তরিত হয়ে স্বপ্নদৃশ্যের সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্বপ্নের মূল উপাদান তৈরি হয় স্বপ্নদ্রষ্টার দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও কর্ম থেকে। এবং স্মৃতি থেকে।
স্বপ্ন দেখাকে একটা phase অথবা state এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন নিজেদের অজান্তেই আমরা কয়েকটি phase এর ভেতর দিয়ে যায়। এরমধ্যে দুইটি হচ্ছে REM এবং NON-REM। REM হচ্ছে Rapid Eye Movement এর সংক্ষিপ্ত রূপ। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এই ফেইজ এ ঘুম দ্রুত চোখের পাতা নড়াচড়া করে থাকে আর আমরা সাধারণত এই সময়েই স্বপ্ন দেখে থাকি। একটা জিনিশ জেনে রাখা উচিত যে শুধু মানুষ নয় বরং সকল Mammal (স্তন্যপায়ী) প্রাণিই স্বপ্ন দেখে থাকে অর্থাৎ তাদের ক্ষেত্রেও র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট হয়ে থাকে। REM পর্যায়টির স্থায়ীত্বকাল সাধারণত মোট ঘুমের ১ চতুর্থাংশ হয়ে থাকে যদি একে অনুপাতের হারে ফেলি অর্থাৎ কেউ যদি টানা ৮ ঘন্টা ঘুমের মধ্যে কাটায় তাহলে তার REM ফেইজ হবে প্রায় ২ ঘন্টা। একজন গড় আয়ুর ব্যক্তি তার জীবনের প্রায় ৬ বছর সময় কাটিয়ে দেন স্বপ্ন দেখে। এই পর্যায়টি হচ্ছে ঘুম থেকে জেগে উঠার সবচেয়ে নিকটস্থ সময়ে হয়ে থাকে এজন্য অনেক সময় খেয়াল করে থাকবেন স্বপ্ন দেখার সাথে সাথেই আপনার ঘুম ভেংগে গিয়েছে। এছাড়া গভীর ঘুমে থাকা অবস্থায় ( NON-REM) আমরা হয়ত স্বপ্ন দেখি তবে সেটা স্মৃতিতে থাকেনা সাধারণত। একটি স্বপ্নের স্থায়ীত্বকাল ১৫-২৫ মিনিট আবার কয়েক সেকেন্ড ও হতে পারে তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে স্বপ্ন দেখলে সেটা স্মৃতিতে ভালমত জমা থাকে। স্বপ্নের ভিতরে যা ঘটে থাকে তার সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয় কিন্তু আপনার যখন ঘুম ভেংগে যাবে এবং স্বপ্ন নিয়ে যদি একটু চিন্তা করেন তাহলেই দেখবেন কতটুকু গড়বড় ছিল স্বপ্নে। এর কারণ হচ্ছে স্বপ্ন দেখার সময় আমাদের ব্রেইনের একটি সেকশন প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স যার সাহায্যে আমরা লজিক্যাল চিন্তাভাবনা করে থাকি সেটি কাজ করেনা। এজন্য স্বপ্ন যতটাই বাস্তবিক মনে হোক না কেন স্বপ্ন দেখার সময় আপনার একটিবারের জন্যেও মনে হবে না আপনি স্বপ্ন দেখছেন বরং মনে হবে সেখানেই উপস্থিত আছেন আর এর ফলে স্বপ্নের ভেতরকার এনভাইরনমেন্টের সাথে ইন্টের‍্যাক্ট করাটা আরো সুবিধাজনক হয়। আমার কাছে স্বপ্ন দেখাকে ঘুমের ভেতর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করার মত মনে হয়। আপনার প্রশ্নের একদম এক্স্যক্ট যে উত্তর সেটা এতক্ষণ না দিয়ে বেশ পেচালাম এজন্য দু:খিত। আসলে আমরা ঠিক কি কারণে স্বপ্ন দেখি এটা বিজ্ঞান ও সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে নি। এটাও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে স্বপ্ন দেখার জন্য ব্রেইন এর নির্দিষ্ট এক না একাধিক অংশ দায়ী। বিংশ শতকের শুরুতে সাইকোথেরাপিস্ট সিগমন্ড ফ্রড একটি থিয়োরি দেন যে স্বপ্নের ভেতর আমাদের ইচ্ছাগুলোই ফুটে উঠে অর্থাৎ আমরা বাস্তবে যা করতে চাই সেগুলোই স্বপ্নতে দেখি। কিন্তু এই থিয়োরিতে আমার একটি আপত্তি রয়েছে। কারণ দু:স্বপ্নে আমরা যা দেখি সেটি কখনোই আমাদের ইচ্ছা হতে পারে না।
আকাশে উড়তে পারে ফ্লাইং ফিশ

আকাশে উড়তে পারে ফ্লাইং ফিশ



মাছ উড়তে পারে! কথাটি শুনে অনেকে হয়ত অট্ট হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিবেন। কারণ মাছ পানিতে বাস করে সবাই জানে। তবে হ্যাঁ, অনেক মাছ পানির মধ্যে থেকে লাফিয়ে ওঠে। অনেক সময় জালে আটকা পড়লে মাছ পানির মধ্যেও লাফিয়ে শূন্যে উঠে পালানোর চেষ্টা করে। তারপর ধপাস করে পানিতেই আছড়ে পড়ে।
তবে হেসে উড়িয়ে দিলেও ঘটনা কিন্তু সত্য। অর্থাৎ যে মাছকে আমরা শুধুই জলের জীব হিসেবে জানি তারও রয়েছে উড়ে বেড়ানোর ক্ষমতা। না, ইলিশ, কাতল, বোয়াল মাছের এই ক্ষমতা নেই। এমনকি এদেশে পাওয়া যায় এমন কোনো মাছই উড়তে পারে না। এই বিশেষ ক্ষমতা যে মাছের রয়েছে মৎস্য গবেষকরা নাম দিয়েছেন ফ্লাইং ফিস অর্থাৎ উড়ন্ত মাছ। আপনি উড়ুক্কু মাছও বলতে পারেন।
পৃথিবীর অনেক জায়গায় ফ্লাইং ফিস ফ্লাইং কড নামেও পরিচিত। এরা এক্সোকোয়িটাইড গোত্রের। এক্সোকোয়িটাইড শব্দটি গ্রীক এক্সোকোয়িটাস শব্দ থেকে এসেছে। শব্দটি প্রাচীন গ্রীসে এমন সব প্রাণীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো যারা বাসস্থানের বাইরে ঘুমায়। প্রাচীনকালে মাছের এই উড়ার ক্ষমতার কারণে মনে করা হতো- এই মাছ সারাদিন পানিতে বিচরণ করলেও রাতে ঘুমানোর জন্য তীরে উড়ে যায়।
এই গোত্রের মাছেরা সাধারণ মাছের থেকে একটু ভিন্ন। এদের শারীরিক গড়নও সাধারণ মাছের থেকে আলাদা। অন্যান্য মাছের ন্যায় এদের পাখনা থাকলেও তা অনেকটা পাখির ডানার মতো। এদের পৃষ্ঠদেশ স্ট্রিমলাইনড টর্পেডো আকৃতির এবং জোড়া লাগানো। এছাড়া এই মাছের বক্ষ-পাখনা থাকে অনেক বড় যা তাদের বাতাসে ভেসে থাকতে সহয়তা করে।
পৃথিবীতে ৯ ধরনের ৬৪ প্রজাতির উড়ুক্কু মাছ পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাগরগুলো ( বিষুব রেখার নিকটবর্তী সাগর) এই মাছের বিচরণক্ষেত্র। এরা সাগরের পানির ওপরিভাগ থেকে ২০০ মিটার গভীর পর্যন্ত চলাচল করে। তবে ওড়ার ক্ষমতা থাকলেও এসব মাছ পাখির মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশে ভেসে থাকতে পারে না। ফলে গবেষকরা এই ওড়াউড়িকে প্রকৃত উড্ডয়ন হিসেবে মানেন না। তারা একে বলেন গ্লাইডিং। আরও সহজ করে বললে, বাতাসে ভেসে থাকা বা বাতাসে ভর করে লাফিয়ে চলা।
পানি ছেড়ে উড়ুক্কু মাছের হাওয়ায় ভাসার পেছনে রয়েছে দুটি উদ্দেশ্য। প্রথমটা হলো, প্ল্যাঙ্কটন। এই জাতীয় খাবার খেতে উড়ুক্কু মাছকে পানির ওপরে উঠতে হয়। দ্বিতীয়টা হলো আত্মরক্ষা। বড় মাছ বিশেষ করে টুনা, ডলফিন, স্কুইডের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য পানি ছেড়ে হাওয়ায় ভাসে তারা।
উড়ুক্কু মাছের ওড়াউড়ি পাখির মতো না হলেও বেশ চমৎকার। প্রথমে মাছটি পানির ওপর লাফিয়ে ওঠে। এরপর জোরে, দ্রুত গতিতে সাগরের পানিতে লেজ দিয়ে আঘাত করে। সেকেন্ডে ৭০ বারের মতো সাগরপৃষ্ঠে লেজ দিয়ে আঘাত করার পর সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অনেকটা রানওয়েতে বিমান উড্ডয়নের মতো, এরপর মাছগুলো ডানা মেলে দেয়। আবার কোন কোন উড়ুক্কু মাছেল পায়ু-পাখনা অনেক বড় হয়। এদের লেজ বা পুচ্ছ পাখনাও অনেক বড় ও শক্ত, যা দিয়ে এরা পানিতে আঘাত করে ওড়ার গতিশক্তি লাভ করে।
একটি উড়ুক্কু মাছ সাধারণত ৫০ মিটার বা ১৬০ ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠতে পারে। তবে ক্ষেত্রবিশেষ এই দূরত্ব ৪০০ মিটার বা ১৩০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। উড়ুক্কু মাছের ওঠার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার। বাতাসের গতি বা ঢেউয়ের অবস্থার উপর নির্ভর করে এরা ৩০ সেকেন্ড অবধি বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।
জাপানে উড়ুক্কু মাছের সুসি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া জাপানে এই মাছের শুঁটকিও হয়। ভিয়েতনাম, চীন, তাইওয়ানেও এই মাছ রসনার জনপ্রিয় উপকরণ। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশ বার্বাডোজের অন্যতম জাতীয় প্রতিক এই মাছ। উড়ুক্কু মাছের শিকার নিয়ে বার্বাডোজ ও ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ ছিল। ২০০৬ সালে জাতিসংঘ প্রদত্ত একটি রায়ে এই বিবাদ নিরসন হয়েছে।

সমুদ্রের নিচে নিজ দেহকে আলোকিত করতে পারে যেসব জীব

সমুদ্রের নিচে নিজ দেহকে আলোকিত করতে পারে যেসব জীব


সাগরের অতলটা আসলে কেমন? খুবই গভীর, অন্ধকার একটা জগত। সাগরের প্রায় ২০০ মিটার নিচে কোন ধরণের আলো জ্বলে না। সেখানে কেবলই অন্ধকার, একদম নিকষ আঁধারের মত। যদি কোন সাগরের গভীরতা কমপক্ষে গড়ে ১৪,০০০ ফিট হয়, তাহলে সেখানে আলোকিত হবার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কিন্তু তারপরও পানির নিচের জীবজগত রয়েছে, আলোকিত হয়। কিভাবে?

বায়োলুমিনিসেন্স ফিশ    ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট

পানি নিয়ে যারা গবেষণা করেন, অর্থাৎ মেরিন বায়োলজিস্টরা তাদের দেয়া নতুন একটি তথ্যে বলেছেন যে, সাগরের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্রাণী নিজেদের শরীরে আলো উৎপাদন করতে সক্ষম। অর্থাৎ, ৭৫% জলজ জীব বায়োলুমিনিসেন্স (যারা প্রাকৃতিকভাবে নিজ দেহে আলো উৎপন্ন করতে সক্ষম)।
গত ১০ এপ্রিল সায়েন্টিফিক রিপোর্ট নামক একটি জার্নালে এটি উল্লেখ করা হয় যে, সাগরের প্রাণীদের নিজ আলোয় আলোকিত হওয়া খুব নতুন কোন ঘটনা নয়।
সেভেরিন মার্টিনি নামক একজন গবেষক বলেন,
“আমি আসলে ঠিক জানি না সাধারণ মানুষ সমুদ্রের গভীরে প্রাণীদের আলোকিত হওয়াটিকে ঠিক কেমনভাবে নেবে। এটি এমন নয় যে কেবলমাত্র দু একটি প্রাণীর ক্ষেত্রে কথাটি খাটে। এংলার ফিশ, জেলীফিশ, ছোট ছোট ওয়ার্ম জাতীয় প্রাণী, স্কুইড- সব ধরণের প্রাণীর ক্ষেত্রেই এই উদাহরণটি উল্লেখযোগ্য। তারা সকলেই প্রাণীর নিচে নিজ আলোয় আলোকিত হয়।”
বায়োঅর্গানিজম যেগুলো রয়েছে তারা ঔজ্জ্বল্যতার সাথে থাকে কিন্তু তারা বেশ গভীরে অবস্থান করে। এই কারণে পূর্বের পরীক্ষাগুলোতে লাইট এমিটারস দ্বারা তাদের এই ঔজ্জ্বল্যের কোন রেকর্ড পাওয়া যায় নি। এমনকি অনেক ক্যামেরা সাহায্যেও তাদের স্থান নিরুপণ করা সম্ভব হয় নি। মার্টিন বলেন বেশিরভাগ জলজ জীব তাদের এই আলোটি নিভিয়ে রাখে। এর কারণ হচ্ছে নিজেকে আলোকিত করার মাধ্যমে অন্য কোন জীবের খোরাক বা শিকার হবার ইচ্ছা কারোরই থাকে না। ঠিক এই কারণে, এই জলজ প্রাণীগুলো নিজেদের সাধারণভাবে রাখে। কিন্তু মূল ঘটনা হচ্ছে, সামুদ্রিক প্রাণীরা নিজেদের দেহকে আলোকিত করতে পারে।
সূত্রঃ লাইভ সাইন্স